সৃষ্টি ও স্রষ্টার মাঝখানে রয়েছে কার্য-কারণ সম্পর্কের সেতু

স্রষ্টা এক বা বহু আমরা যাই কল্পনা করি, সেই কল্পনার ছবি হিসেবে আমাদের চোখে ভেসে উঠবে, কোন এক বা ভিন্ন ভিন্ন রূপে বা আকৃতিতে কিছু জীবন্ত ছবি। মনে হবে যিনি তার ক্ষমতা বলে সব কিছু করছেন।

সাথে সাথে মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে, জীবন থাকলেই তো মৃত্যু হয়, তাহলে কি স্রষ্টারও মৃত্যু আছে! প্রশ্ন উঠতে পারে তিনি বা তাঁরা কোথায় থাকেন! আকাশে? কখন এই সব করেন! সব সময়ে তো সৃষ্টি হয়েই চলেছে । কি ভাবে করেন! জাদুবলে?

এই ভাবে একের পর এক প্রশ্ন থেকে, আধ্যাত্মিক দর্শনে, মানুষকে নিস্তার দেবার জন্য বলা হল-
কোন জন বা ব্যক্তি নয় শুধু মাত্র “শক্তি”, যে শক্তি সমগ্র ব্রক্ষ্মান্ডে বিরাজমান, যার জন্মও নেই, মৃত্যুও নেই, সেই শক্তিই স্রষ্টা। যার মধ্যেই নিহিত আছে সৃষ্টির সমস্ত গুন ও ভাব। তাঁরই প্রকৃতির সংস্পর্শে গড়ে ওঠে এই বৈচিত্র্যময় সৃষ্টি।

সম্পর্কের প্রশ্নে বলা যেতে পারে, কার্য ও কারণের সম্পর্ক, যেমন উষ্ণতায় জল বাষ্প হয়, সেই বাষ্প আবার কার্য কারণে বৃষ্টি হয়ে নেমে আসে। এই ভাবেই সমগ্র সৃষ্টিই, বিশ্ব শক্তির নিয়মে বিভিন্ন কার্য কারণে সংগঠিত হয়ে চলেছে যুগ থেকে যুগান্তরে।

সেই শক্তিকে যে কোন মানুষ তার ভাব অনুযায়ী যে কোন রূপে কল্পনা করতেই পারেন।

কার্য কারণ সম্পর্কিত ভাবকেও মানুষ তার নিজস্ব কল্পনায় যা ইচ্ছে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন।

কারণ মূল সেই শক্তিকে অনুভব করা, রূপ ও সম্পর্কের চিন্তা একটা মানুষিক ভাব মাত্র, যা সেতু হিসেবে ক্রিয়া করে।

স্রষ্টার ও সম্পর্কের ভাব যার যার কল্পনা অনুযায়ী তিনি ভাবতেই পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *