সৎ-চিৎ-আনন্দ জীবনের দুঃখ নিবারণের পথ

আমরা সবাই সচ্চিদানন্দময়, আমরা নিত্য বিশ্বশক্তির অংশ। তবু আমাদের স্বচ্ছ ধারণার অভাবে নিজের অবস্থান বুঝতে না পারার জন্য, আমরা অনেক সময় দুঃখ অনুভব করি।

আমরা ভুলে যাই যে বিশ্বশক্তির কোন নির্দিষ্ট আকৃতি বা কোন এক ভাবের মধ্য সীমাবদ্ধতা নয়। প্রত্যেক মানুষের তার নিজস্ব প্রকৃতিগত ভাব ভিন্ন ভিন্ন, সেই ভিন্ন ভাবের পূর্ণতা প্রাপ্তির জন্যেই এই মানুষ জন্মের প্রশ্ন। আর সমস্ত ভাবের আধার বিশ্বশক্তি। একই আধারে অজস্র রূপ ও ভাব যা বিশ্ব রূপ দর্শনের প্রতীক।

কোন ভাবে যদি নিজের ভাবকে উপলব্ধি করবার ক্ষমতা না আসে, শুধু মাত্র অন্যকে অনুকরণ করে জীবনের চাওয়া-পাওয়ার বৃত্ত গড়ে তুলতে চাই তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই, আমার নিজস্ব ভাব থেকে বিচ্যুত হয়ে পরবাসি হয়ে থাকতে হবে, যা কখনও আনন্দময় হওয়া সম্ভব নয়। ব্যঙ যদি হাতি হতে চায়(রূপকের গল্প) কষ্ট তাকে পেতেই হবে।

এছাড়া প্রতিটি মানুষের মধ্যেই সুপ্ত ভাবে রয়েছে “আত্মজ্ঞান”। যে জ্ঞানের দ্বারা সে অনুভব করবার ক্ষমতা অর্জন করবে যে তার ভেতরে রয়েছে মনুষ্যেত্বর ভাব, যে ভাব ঈশ্বরীয় ভাব, বিশ্ব শক্তির নিয়মে তাকে সেই ভাব অর্জন করতেই হবে।

স্বাভাবিক ভাবে যদি সেই পথের সন্ধান বা সেই শক্তির নিয়মেকে উপলব্ধি করবার জন্য যে জ্ঞান বা মানসিকতার প্রয়োজন তার যদি অভাব থাকে, সেই মানসিক স্তর বা জ্ঞান সৃষ্টির প্রয়োজনে, বিশ্বশক্তির নিয়মে, আমাদের বিভিন্ন সমষ্যার সম্মুখীন হতে হয়। সেই জ্ঞানের সত্যতা অনুভব করবার জন্য। যা হয়ত আপাত দৃষ্টিতে দুঃখ বলেই অনুভব হয়।

এই মহা বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ডের সমস্ত কিছুই বিশ্ব শক্তির নিয়মে সংগঠিত। মূল সত্তাকে উপলব্ধি করাবার জন্যই সমস্ত ভাবের সৃষ্টি। এই ভাবের মধ্যেই অনুভূতির জন্ম যা সৎ-চিৎ-আনন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *