মনুষ্যত্ব অনেক উন্নত ও উর্ধতর ভাব। যে ভাবকে বুঝবার জন্য মানুষের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হয়েছে চিন্তা করবার ক্ষমতা। রয়েছে মনের গতি।
যে ক্ষমতার দ্বারা শুধু জীবনের প্রবাহকে মেনে নেওয়া নয়। প্রবাহের উৎস ও কারণকে অনুসন্ধান করে, সেই উৎসে পৌছবার জন্য যত প্রতিবন্ধকতা আছে তাকে অতিক্রম করবার ক্ষমতাই মনুষ্যেত্বর ভাব।
এই ভাব যখন কোন ব্যক্তির উপলব্ধি হয় তখন স্বাভাবিক ভাবেই যে কোন সংস্কার, নিয়ম, নীতি তাকে বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারে না, সমস্ত কিছুর মধ্যেই তার চিন্তা ক্রিয়া করে, যা খুঁজে পেতে চায় মূল উৎসের সাথে সব কিছুর কার্য কারণ সম্পর্ক। জগৎ ও জীবন সন্মন্ধে জন্ম নেবে সচেতন ভাব।
মনুষ্যত্বর ভাব ক্রিয়াশীল করে তোলে মনের কর্ষনের ক্ষমতাকে, যা চেতনার বৃদ্ধি ঘটায় ।
চেতনার বিশ্লষণেই শুধু মাত্র মানবিকতার মূল্য ।
মনুষ্যত্ব শব্দের মধ্যেই রয়েছে সেই ইঙ্গিত যা অন্ততঃ পশুত্বর ভাব থেকে ভিন্ন।
অথচ মনুষ্যত্ব ভাব ক্রমবিকাশের মাধ্যমে ব্যষ্টি মন থেকে সমষ্টি মনের তরঙ্গে পৌঁছাতে পারে, যা মন থেকে চেতনায়, চেতনা থেকে চৈতন্যের দরজায় নিয়ে যেতে সক্ষম হতে পারে ।
পশুত্ব ভাবের মধ্যে সাধারণত যা পরিলক্ষিত হয়–
আহার আহরণের জন্য সারাদিন ছোটাছুটি করা।
দৈহিক রাসায়নিক বিক্রিয়ার তাগিদেই বংশ বিস্তার করা।
কারুর দাসত্ব মেনে নিয়ে অথবা নিজের অস্তিত্বের জোর খাটিয়ে নিজের আশ্রয়ের নিশ্চয়তা করা।
নিজেকে এবং নিজের স্বার্থকে অক্ষুণ্ণ রাখবার প্রচেষ্টায় সর্বক্ষেত্রে ঝগড়া বিবাদ করা।
সর্বোপরি প্রকৃতিগত ভাবে প্রাপ্ত ভাব ও নিয়মকে মেনে নিয়েই জীবন ধারণ করা।
