অবস্থান অনুভবের ক্ষেত্রে যখনই চিন্তন ক্রিয়া করবে তখন অনুভূত হবে, যে এই অনন্ত বিশ্ব শক্তির সমুদ্রের মধ্যেই জগত সংসার, ও আমারা সবাই অবস্থান করছি। যে বিশ্ব শক্তির নাম দেওয়া হয়েছে আত্মা, পরমাত্মা বা ব্রক্ষ্ম যা অন্তহীন, সনাতন ও স্থির।

এই শক্তির থেকে যে ভাব নিয়ত উৎসারিত হয়, তাকেই “চেতনা” নামে অভিহিত করা হয়েছে, চৈতন্যময় সত্তা।
যে সত্তা প্রতিমুহূর্তে প্রতিনিয়ত সমস্ত কিছুর মধ্যে দিয়েই প্রকাশিত হয়ে ক্রিয়া করে চলেছে এই জগত সংসারে। এই চেতনাকে সর্বাত্মক ভাবে উপলব্ধি করাই চৈতন্যের ভাব।
সৃষ্টি, স্থিতি, লয়ের এবং বিশ্বের সমস্ত উপকরণ ও আমাদের সমস্ত ভাব এই চেতনার স্পন্দনের গতিতে সংগঠিত হয়ে চলেছে। স্থূল, সূক্ষ্ম, সূক্ষ্মতর ও সূক্ষ্মতম স্পন্দনের তারতম্য অনুযায়ী গঠন হয়ে চলেছে, বিশ্ব বৈচিত্রের ভিন্ন ভিন্ন রূপ।
আমরা সবাই এই চেতনার স্পন্দনের সমষ্টি মাত্র। জগত সংসারের পঞ্চভূত ও সমস্ত ভাব এই চেতনার স্পন্দনের গতিতেই ক্রিয়াশীল।
জন্মে যেমন চেতনার স্পন্দনের ক্রিয়া, ঠিক তেমনই মৃত্যুর পরেও অবশিষ্ট থাকে, শুধু মাত্র এই চেতনার স্পন্দন। আমাদের চিন্তন ও কর্মের ভাব অনুযায়ী স্থূল, সূক্ষ্ম, সূক্ষ্মতর ও সূক্ষ্মতম রূপে, যার স্থিতি এই পরমাত্মার আধারেই।
আমাদের চিন্তন ও কর্মের ভাব অনুযায়ী স্থূল থেকে সূক্ষ্মতর চেতনার স্পন্দনের ক্রিয়াই নির্ধারণ করে জন্ম জন্মান্তরের গতি।
একমাত্র সূক্ষ্মতম স্পন্দন আত্মভাবে বিলীন হবার পথ প্রশস্ত করে।