আকাঙ্ক্ষা ও প্রাপ্তি

আমাদের সাধারণ বোধ হল, আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেওয়া এবং তা পাবার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করা বা প্রচেষ্টা করা। এই চাওয়া পাওয়ার মধ্যে অনুঘটকের কাজ করে —
(এক) যা আকাঙ্ক্ষা করা যায়, সেই বিষয় প্রাপ্ত করবার জন্য আকাঙ্ক্ষার তীব্রতার পরিমাপ।
(দুই) আকাঙ্ক্ষার বিষয় প্রাপ্ত করবার জন্য নিজেকে সেইভাবে যোগ্য হিসাবে বিবেচনা করা।

কোন কিছু পাবার জন্য আকাঙ্ক্ষা যত তীব্র হবে, সেই বিষয়ের মূল্য তার কাছে তত মূল্যবান হয়ে উঠবে।

সেই মুল্যবান প্রাপ্ত বিষয়কে অর্জন করবার জন্য নিজের যোগ্যতার প্রশ্নও মনে আসবার প্রয়োজন।

শ্রীমদ্ভগবদগীতায় অর্জুন, বিশ্বরূপ দর্শন করবার জন্য ভগবানের কাছে নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করে, সাথে সাথে বিশ্বরূপ দর্শন করবার জন্য যে যোগ্যতার প্রয়োজন সেটা তার আছে কিনা, সে প্রশ্নও তার মনে জাগে।

শ্রীমদ্ভগবদগীতার একাদশ অধ্যায়ের 4 নম্বর শ্লোকে বর্ণিত আছে–
মন্যসে যদি তচ্ছক্যং ময়া দ্রষ্টুমিতি প্রভো।
যোগেশ্বর ততো মে ত্বং দর্শয়াত্মানমব্যয়ম্।।
( সে প্রভু আমাকে যদি আপনার সেই বিশ্বরূপ দর্শন করবার যোগ্য মনে করেন, তা হলে হে যোগেশ্বর আমাকে আপনার সেই অবিনাশী স্বরূপ দেখান।)

যে কোন বিষয় প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজন-
(এক) আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি।
( দুই) প্রাপ্তির জন্য ইচ্ছার তীব্রতা।
(তিন) নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *