ত্যাগ ও বৈরাগ্য

ত্যাগ, বৈরাগ্য প্রভৃতি শব্দগুলো গঠিত হয়েছে এক একটা ভাবকে বোঝাবার জন্য।

যেমন ত্যাগ- কোন কিছু নিজের বলে গ্রহণ না করবার ভাব।
বৈরাগ্য– সমস্ত কিছুতে বিরাগ, অর্থাৎ কোন কিছুতে নিজেকে যুক্ত না করার ভাব।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্নটা “নিজেকে” নিয়ে, “নিজে” গ্রহণ না করা ত্যাগ, বা কোন কিছুর সাথে “নিজেকে” যুক্ত না করা বৈরাগ্য।

এবার প্রশ্ন এই “নিজেটা” কে! যদি আমার দেহ, আমার নাম, আমার পরিচয় প্রভৃতি আমি ” নিজে” হই, স্বাভাবিক ভাবেই আমার পছন্দ মত বস্তু বা ভাব আমি গ্রহণ করব এবং “নিজেকে” তার সাথে যুক্ত করে আমার বলে দাবিও করব। আবার প্রয়োজনে আপোসও করব।

আবার এই “নিজে” যদি দেহ, নাম, বা কোন পরিচয় প্রধান না হয়, যদি অনুভব হয় “আমি” এই বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ডে শক্তির সমুদ্রে ভাসমান এক বিন্দু । আমার আলাদা কোন পরিচয় নেই। অনন্ততাই আমার পরিচয়। যাকে বলা হয় আধ্যাত্মিক বোধ।

এই বোধে কোন কিছু গ্রহণ করা বা না করার অর্থাৎ ত্যাগের কোন প্রশ্ন নেই। আর কোন কিছুর সাথে রাগ, বিরাগের বা বৈরাগ্যর প্রশ্নও থাকে না।

স্বাভাবিক ভাবেই ত্যাগ বা বৈরাগ্য দেহগত আমি থেকে, অনন্তের আমি বোধের অনুশীলনে, গ্রহন বা যুক্ত না হওয়া ভাবের শব্দ হিসেবে ক্রিয়া করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *